ছবি : সংগৃহীত
একুশে মিডিয়া, বিনোদন রিপোর্ট:
সিনেমা নাটক যাই বলি না কেন চলচ্চিত্রের একটি অপরিহার্য অংশ মেকাপ। তারকাদের ক্যামেরার সামনে সুন্দর করে তুলতে কাজ করে যান একদল শিল্পী। যিনি তার পরিশ্রমের মাধ্যমে দর্শদের সামনে একজন শিল্পীকে পরিপূর্ণ করে তোলেন। আর যারা এই কাজটি করে থাকেন তারা মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবেই পরিচিত।
সেলিম তেমনি একজন সিনিয়র মেকআপ আর্টিস্ট। ১৯৮১ সাল থেকে এখন অবধি চলচ্চিত্রে মেকআপ ম্যানের কাজ করে যাচ্ছেন। নায়করাজ রাজ্জাক, আলমগীর, ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন, সালমান শাহ, শাকিব খান, দিতি, ববিতা, শাবানা, রোজিনা, মৌসুমী, শাবনূর, অপু বিশ্বাসসহ আরো অনেকের মেকআপ করেছেন। তবে এখনকার সময় থেকে আগে তাদের মূল্যায়নটা বেশী করা হতো বলে জানান তিনি।
বেশ আক্ষেপ করেই সেলিম বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘নায়ক এবং নায়িকা বলেন। প্রথমে কিন্তু তারা ঢোকে মেকআপ রুমে। আমরা সুন্দর করে তাদের রেডি করি। তারপর তারা সেটে যায়। আমরাই দেখি তাদের আসল রুপ। সেই মেকআপের পরেই ক্যামেরা ম্যান থেকে ডিরেক্টররা তাদের ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। শুরুর কাজটা কিন্তু আমরা করি। কিন্তু আমাদের কাজ অনুয়ায়ী আমরা মূল্যায়ন পাই না।’
সুজন সখী, শংখ চিললের মতো প্রায় ২০০ উপরে ছবিতে মেকআপ ম্যানের কাজ করেছেন সেলিম। তার কাজ করা চলচ্চিত্র জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে তিনি বলেন, আমার ছবি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়, কিন্তু আমি পাই না। এবারও পাবার কথা ছিল, কিন্তু তা আর হলো না। অনেকে না জেনেই জুরি বোর্ড কে দোষ দেয়। আসলে তাদের কোন দোষ নেই। আসল সম্যসা নির্মাতা ও প্রযোজকদের। তারা উপর মহলে যোগাযোগ করে সব ঠিক করে ফেলে।
সিনেমায় যাদের এত অবদান। তাদের অবস্থা খুবই করুণ উল্লেখ করে সেলিম বলেন, দিন শেষে অনেকেই পায় না নিজের পারিশ্রমিক। ব্যতিক্রম ঘটে তারকা শিল্পীদের মেকআপ আর্টিস্টদের বেলায়। যেমন সবুজ আছে শাকিব খানের। জাভেদ আছে মাহিয়া মাহির মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে। কিন্তু, শত শত মেকআপ আর্টিস্ট থাকে অবহেলায় পড়ে। এফডিসিতে নেই তাদের আড্ডা কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আলাদা কোন জায়গা। নেই কোন সমিতি।
দীর্ঘ দিনের ক্যারিয়ারে শাবনূরের সঙ্গে বেশ ভালো সক্ষতা ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার এত দিনের ক্যারিয়ারে শাবনূরের মতো শিপ্লী বা মানুষ দেখি নাই। তিনি কখনোই এমন কিছু করে নাই বা বলে নাই যাতে করে অসম্মান হবে।
বর্তমান সময়ের শিল্পীরা সম্মান দিতে জানে না বলেও এই সিনিয়র মেকআপ আর্টিস্ট জানান।
বহির্বিশ্বের চলচ্চিত্রে মেকআপ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও বাংলা সিনেমার বয়স এত বছর হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। আরো কয়েকজন মেকআপ আর্টিষ্ট এর সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে। তাদের আসলে খুব বেশি কিছু করার থাকে না। শুধু ফর্সা করার জন্য যা করার দরকার তা করে থাকেন। বাহিরের দেশগুলোতে নানা রকম চরিত্র সৃষ্টি করা হয়। যার জন্য মেকআপ জরুরি। তা আসলে এখানে হয় না। যেহেতু এখানে এর চাহিদা কম। তাই মেকআপ আর্টিষ্টদের অর্থনৈতিক ক্ষরায়ও পড়তে হয় নানা সময়। একুশে মিডিয়া।’
No comments:
Post a Comment