একুশে মিডিয়া কুমিল্লা রিপোর্ট:>>>
কুমিল্লায় সোহেল মিয়া হত্যা মামলায় জড়িত বার জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আসামিদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ এপ্রিল) বিকালে কুমিল্লা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ,বি,এম, জহরিুল গণি চৌধুরী এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. মোস্তাফিজুর রহমান (লিটন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. মো. ইকবাল আহম্মেদ ভুইয়া।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন– কুমিল্লা যুবদল উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেবিদ্বার উপজেলার মহেশপুর গ্রামের মো. নাজিম উদ্দিন (৩৪), একই উপজলোর শিবপুর গ্রামের যুবদল নেতা মো. আনিছুর রহমান (৩০), শহিদুল ইসলাম (৪০), পারভেজ আহমেদ (৪৫), মো. জিকরুল্লাহ স্বপন (২২), ডেসটিনি গ্রুপের কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বাবুল (৩৫), ইউছুফ গ্রামের মো. মাসুদুর রহমান রুপক (৩৮), মো. মুকছুদ আহমেদ (৪৬), রিপন বনিক (৪৫), চরবাকর গ্রামের যুবদল নেতা কাঞ্চন চৌধুরী (৪৩), সোহেফ রানা সোহেল (৩৬), নুরুল আজিম(৪০)। স্বাক্ষি প্রমানের অভাবে ১৯ জনকে বেকসুর খালাস বলে রায় দিয়েছেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ২০১৬ সালের ১৯ আগষ্ট দুপুর ১২ টার দিকে যুবদল নেতা নাজিম উদ্দিনের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাকে ডেসটিনি বন্দিশাহী কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড এ আটকে রেখে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। মজিবুর রহমানের ভাতিজা সোহেল মিয়া, মসিউর মিয়া ও তার আত্মীয় ফখরুল ইসলাম, লোকমান হোসেন ও নওশাদ আলী সহ ১৫ জন ডেসটিনি কোল্ড স্টোরেজ লি. এ মজিবুরকে উদ্ধার করতে যায়। তখন মজিবুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বললে ৫০/৬০ জন সন্ত্রাসী তাদের উপর আক্রমন চালায়। এক পর্যায়ে নাজিম উদ্দিন অবৈধ পিস্তল দিয়ে সোহেল মিয়ার মাথায় গুলি করে। সোহেল মিয়াকে মুমুর্ষ অবস্থায় দেবিদ্বার সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
২০ আগষ্ট-২০১৬ তারিখ ৩.০০ টার সময় সোহেল মিয়া দেবিদ্বার সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। এ ঘটনার পরদিন সোহেল মিয়ার বড় ভাই মসিউর মিয়া একত্রিশ জনকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সূত্র আরও জানায়, এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শফিকুর রহমান ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরর্বতী সময়ে ১৩ জনের মধ্যে ১০ জনের স্বাক্ষী নেওয়া হয়। এরপর গতকাল মামলার রায় দেন বিচারক।
একুশে মিডিয়া/আরএ
No comments:
Post a Comment